মেহেরপুর নিউজ :
মেহেরপুর শহরে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে কুপিয়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সায়ন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে স্ত্রীর বাবা ও মাকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় সে। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সায়নকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শহরের হোটেল বাজার এলাকার লর্ড মার্কেটের কাছে ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—সেলিম হোসেন (৫০), তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৪২) এবং তাদের মেয়ে সানজিদা আক্তার স্মৃতি (২২)। স্মৃতির ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে সায়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে বাবা-মা এগিয়ে এলে সেলিম ও রেবেকাকেও কুপিয়ে আহত করে সায়ন। পরে সে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে সায়নকে আটক করে পুলিশ।
আটক সায়ন শহরের মল্লিকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হোটেল বাজার এলাকায় তিনজনকে কুপিয়ে এক যুবক পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আসামিকে শনাক্ত করে সকালে মল্লিকপাড়ার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ওসি আরও বলেন, সায়নের সঙ্গে স্মৃতির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিয়ে হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।