মেহেরপুর নিউজ :
একটি স্বপ্নের বাড়ি, পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস আর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত নিজের ঠিকানায় থাকার প্রত্যাশা, সবকিছুই যেন আজ অনিশ্চয়তার মুখে। যাতায়াতের রাস্তা দেওয়ার আশ্বাসে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন দেশবরেণ্য ভারোত্তোলন খেলোয়াড় আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু জমির মালিক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এখন নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ফলে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে আশরাফুল ইসলামের পুরো পরিবার।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের মাঠপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। একজন ক্রীড়াবিদের জীবনের অর্জন, সংগ্রাম ও সম্মানের পাশাপাশি এখন নিজের বাড়িতে বসবাসের অধিকারটুকু রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। ভূক্তভােগী আশরাফুল ইসলাম গাংনী মাঠপাড়ার আব্দুল হান্নানের ছেলে।
অভিযােগ সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রােজিনা খাতুন মিলে একই পাড়ার মৃত ফকির মহাম্মদের ছেলে মাহাবুব আলীর কাছ থেকে ১৯৯৮ সালের দিকে সােয়া ৩ শতক জমি কিনেছিলেন। যার দাগ নং-৪৯৬৫,খতিয়ান নং-১১৬৩
,হােল্ডিং নং-৬৫৪৪। এই জমি রেজিস্ট্রির পর ইতােমধ্যে খাজনা-খারিজও পরিশােধ করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির সময় দলিলে জমির পশ্চিম পার্শ্বে রাস্তা উল্লেখও করা রয়েছে। তারপরও মাহাবুব আলী তাকে রাস্তা দিতে নারাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি কেনার সময় যাতায়াতের জন্য রাস্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন আশরাফুল। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি নির্মাণের পর সেই যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
এর ফলে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাচল থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম পর্যন্ত নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নিজস্ব জমিতে বাড়ি থাকলেও সেখানে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারটি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে তাদের।
আশরাফুল ইসলাম শুধু একজন সাধারণ মানুষ নন; তিনি দেশের ভারোত্তোলন অঙ্গনের পরিচিত মুখ। খেলাধুলার মাঠে নিজের মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করেছেন পরিচিতি। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গনে পরিশ্রম করেছেন। অথচ জীবনের এত অর্জনের পরও নিজের বসতবাড়িতে বসবাসের নিশ্চয়তা না পাওয়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
একটি বাড়ি মানুষের কাছে শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, স্মৃতি ও স্বপ্ন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেলে একটি পরিবার কী ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়ে, আশরাফুল ইসলামের পরিবার যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।
এলাকাবাসীর অনেকের মতে, জমি কেনাবেচার সময় যাতায়াতের রাস্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার আশ্বাসে কেউ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করার পর সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় থাকে না; বরং একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে জমির দলিল, মৌজা নকশা, রাস্তার অবস্থান, জমি কেনাবেচার সময়কার চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। জমির মালিকানা ও যাতায়াতের অধিকার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনসম্মত উপায়ে তার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
আশরাফুল ইসলামের পরিবারের দাবি, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; চান শুধু নিজেদের বাড়িতে যাতায়াতের স্বাভাবিক ব্যবস্থা এবং নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ। যে আশ্বাসের ওপর ভরসা করে তারা জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, সেই বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান চান তারা।
এ বিষয়ে মাহাবুব আলীর সাথে মােবাইলফােনে যােগাযােগ করার চেষ্টা করা হলে,তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে একজন ক্রীড়াবিদের পরিবারের এমন দুর্ভোগের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবারটি আবারও নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখা একজন খেলোয়াড়ের নিজের বাড়িতে বসবাসের অধিকার নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। রাস্তার আশ্বাসে কেনা জমিতে বাড়ি নির্মাণের পর যদি সেই বাড়িতে যাওয়ার পথই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জমি কেনা ও বসবাসের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এখন আশরাফুল ইসলাম ও তার পরিবারের একটাই প্রত্যাশা-যে বাড়ি গড়েছিলেন আপন ঠিকানা হিসেবে, সেই বাড়িতে যেন আবারও ফিরতে পারেন তারা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমস্যাটির সুষ্ঠু সমাধান হবে, এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার ও এলাকাবাসীর।