মেহেরপুর নিউজ :

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রাম থেকে মাটি খুঁড়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ তাজা অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে উদ্ধারকৃত মোট ৯৬টি মাইন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বেতবাড়ীয়া গ্রামে রাস্তা মেরামতের সময় প্রথম মাইনসদৃশ বস্তুগুলোর দেখতে পান স্থানীয় লােকজন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাদু শাহ জানান, বাড়ি তৈরির ইট আনার সুবিধার্থে রাস্তার পাশের উঁচু জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছিল। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে গেলে প্লাস্টিকের টুলবক্স ও মাইন সদৃশ বস্তুগুলো বেরিয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে গাংনী থানা পুলিশের একটিদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং স্থান দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সীমিত করে দেয়। খবর দেওয়া হয় সেনাবাহিনী ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে। ডিসপোসাল টিম না আসা পর্যন্ত এলাকাটি কর্ডন করে রাখা হয়। সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যশোরের ৫৫ পদাধিক ডিভিশনের ‘৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন’ এর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এই জটিল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন: ৭৯টি ও টুল বক্সসহ অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন: ১৭টি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর তরিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে মাইনগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে স্থানীয় মধুগাড়ী নদীর ধারে নিয়ে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় (Disposal) করা হয়।
স্থানীয় মনজুর হোসেন টকি জানান, ১৯৭১ সালে ভারতের সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের ‘ব্যাংগাড়ির মাঠটি’ ছিল অন্যতম বড় একটি যুদ্ধক্ষেত্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা (অ্যামবুশ) চালানো বা তাদের অগ্রগতি রোখার উদ্দেশ্যে মাটির নিচে এই শক্তিশালী ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পর বিপুল পরিমাণ তাজা বিস্ফোরক উদ্ধার ও সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। পুলিশ ও সেনা কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল এলাকাবাসি।