মেহেরপুর নিউজ:
সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই নতুন ভোটারদের ছবি তোলা বন্ধ রাখার অভিযোগে সংবাদ প্রচারের পর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে আগামী ২ নভেম্বরের আগে নতুন ভোটারদের ছবি তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসা নতুন ভোটারদের ছবি না তুলেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছিল।
গত রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীসহ নতুন ভোটার হতে আসা মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ প্রচারের পর সোমবার থেকে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল তাদের। কেউ কেউ দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াতের খরচ ও সময় ব্যয় করে অফিসে আসছিলেন। কিন্তু ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছিল।
ভূক্তভোগীদের ভাষ্য, নির্বাচন অফিসে গেলে প্রথমে তাদের ফাইল জমা নেওয়া হতো। এরপর ছবি না তুলেই বাড়ি ফিরে যেতে বলা হতো। পরে ফোন করে ছবি তোলার তারিখ জানানো হবে বলে জানাতেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পরবর্তী সময়ে আবার অফিসে আসতে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন নতুন ভোটাররা।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ছুটি নিয়ে নির্বাচন অফিসে এসেও সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছিলেন। তাদের অভিযোগ, পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে বারবার বাড়িতে আসা সম্ভব নয়। একদিনের ছুটি নিয়ে ছবি তুলতে এসে তা সম্ভব না হলে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়। আগে থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হলে এ ধরনের ভোগান্তি এড়ানো যেত।
ভূক্তভোগীদের প্রশ্ন ছিল, নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আগে থেকে জানানো হচ্ছে না কেন? সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছবি তোলা বন্ধ রাখা হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তারা।
এর আগে এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানিয়েছিলেন, আগামী ২ নভেম্বরের আগে নতুন ভোটারদের ছবি তোলা সম্ভব নয়। তবে এ সময়ের মধ্যে ছবি তোলা সম্ভব না হওয়ার কারণ এবং সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একরামুল হক জানিয়েছিলেন, গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে কেন নতুন ভোটারদের ছবি তোলা হচ্ছে না, তা খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের জানিয়েছিলেন, নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছবি তোলা বন্ধ রাখার বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ প্রচারের পর সোমবার থেকে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়া নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।