মেহেরপুর নিউজ:
উত্তরায় ফ্লাইওভারের নীচে ক্রেন দূর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী রুবলের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজলার রাজনগর গ্রামে। ২২ বছর আগে গার্মেন্টসে চাকুরির জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ গ্রাম রাজনগর ছাড়নে তিনি। আইয়ুব আলী রুবেল বর্তমানে জড়িত ছিলেন বেশ কয়েকটি ব্যবসার সাথে। ক্রেন দূর্ঘটনায় মত্যুর পর তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া।
আইয়ুব আলী রুবেলের পরিবার জানায়, রুবেল সহ তারা পরিবারে ৯ ভাই ও দুই বোন। ভাইদর মধ্যে তিনি ৮ম। রুবলের দুই সন্তান । সোমবার হৃদয়ের বৌভাত শেষে ছেলে ও বৌউকে নিয়ে নিজে প্রাইভেট চালিয়ে রওনা দেন তিনি। উত্তরার নির্মানাধীন ফ্লাইওভারে ক্রেন দূর্ঘটনায় ঘটনায় নিহত হন তিনি।
এদিক দূর্ঘটনার ১০/১২ দিন আগে রুবল তার নিজ গ্রামে আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করে গেছেন বলছেন স্বজনেরা। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। মৃত্যুর খবরটি মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়েছে। চলছে দাফনের সব প্রস্তুতি।
নিহতর বোন রেহেনা খাতুন বলেন ২২ বছর আগে গ্রাম থেকে আইয়ুব আলী রুবেল ঢাকায় চলে গেলেও এখনো পরিবার ও গ্রামবাসীর সাথে রয়েছে সুসম্পর্ক। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগেও ভাই গ্রামে এসেছিলো। সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে ঢাকায় ফিরে যান।
নিহতর ভাতিজা তানিয়া সুলতানা দাবি করেন, এটি একটি হত্যাকান্ড। কারণ সড়কে কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছিলেন। সড়কটির নির্দিষ্ট কিছু এরিয়া ফিতা দিয়ে বন্ধ করে দিলে এমন দূর্ঘটনা কখনোই ঘটতোনা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ সুষ্ঠু বিচারর দাবি জানান তিনি।
নিহতের বোনের নাতি নাঈম বলেন, আমার মায়ের চিকিৎসার খরচ দিতেন নানা আমাদের পড়াশোনার খরচও দিতেন তিনি। তিনি আরো বলেন, নানার মৃত্যুতে আমরা তো একেবারেই পথে বসে গেলাম।
নিহতের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বলেন,চাচার দুই সংসার হলেও সেই দুই সংসার তো দেখতেনই পাশাপাশি তার দুই বোনসহ ভাইদের দেখাশোনাও তিনি করতেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করতেন। তাদের দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় তার ভাই সহ তাজা ৫ টি প্রাণ ঝরে গেছে। এর সুষ্ঠু বিচারর দাবি তাদের।পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকায় এম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে লাশ আনার জন্য। রাতেই লাশ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরবে বলে জানান তার পরিবার। লাশ ফিরলে গ্রামেই দাফন করা হবে বলেও জানান পরিবার।