মেহেরপুর নিউজ:
মেহেরপুরে নিজ মেয়ে ববিতা (১৮) হত্যা মামলায় পিতা বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত বজলুর রহমান মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আমেশাতলাপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে। নিহত ববিতা ছিলেন বজলুর রহমানের মেজো মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে ভৈরব নদ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হওয়ার খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে নদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে মরদেহটি মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানার এসআই মকবুল হোসেন বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/২০১ ধারায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৯।
মামলার তদন্তে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি কুলবাড়িয়া গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে ববিতা বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে ববিতার বাবা বজলুর রহমানকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার দিন মেহেরপুরের কাথুলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ববিতাকে সঙ্গে নিয়ে পিকআপযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পরে পিকআপ থেকে নামার পর ববিতার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এতে ববিতা মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে রাস্তার পাশে রেখে তিনি চলে যান।
পরবর্তীতে বাড়িতে গিয়ে কিছুক্ষণ পায়চারি করার পর ঘটনাস্থলে ফিরে ববিতার মরদেহ বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী ভৈরব নদে ফেলে দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
ঘটনার কয়েক দিন পর নদ এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামি বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর সাইদুর রাজ্জাক এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার একরামুল হক হীরা মামলা পরিচালনা করেন।