সাহাজুল সাজু :
১৯ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন বেকার যুবক মিজানুর রহমান ওরফে মিজান। বিয়ের ২ বছর পর সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। এছাড়াও দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারাে জন্ম নেয় আরাে একটি পুত্র সন্তান।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পলাশীপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মিজান। তিনি বিয়ে করেছিলেন একই উপজেলার রামনগর গ্রামের আদুরী খাতুনের সাথে।
একদিকে বেকারত্ব। অন্যদিকে স্ত্রী,পুত্র সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানাে বড় কষ্টকর হয়ে পড়েছিল মিজানের । এক পর্যায়ে মিজান সিদ্ধান্ত নিলেন সৌদি আরবে গিয়ে কাজ-কর্ম করার। সে মােতাবেক ধার-দেনা করে তিনি গত ৭ বছর পূর্বে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে গচ্ছিত টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। স্ত্রী সেই টাকা নিয়ে সংসারে কাজে না লাগিয়ে বাবার পরিবারই প্রতি দৃষ্টি দিতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। পরে তার স্ত্রী আদুরী ২ সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। মিজান প্রবাস থেকেই আত্মীয় স্বজনদের সহযােগিতায় সন্তানদের বড় করে আসছিলেন। বড় ছেলে সাকিবুল হাসান এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছােট ছেলে সবেমাত্র স্কুলে যাচ্ছে।
গত ১ মাস ১০ দিন পূর্বে (আগে) মিজান সৌদি আরবের একটি বিল্ডিংয়ে কাজ করার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফ্লুরে ঘুমাচ্ছিলেন। এসময় বিল্ডিংয়ের উপর থেকে একটি জানালার রড তার মাথা পড়লে,গুরুতর ভাবে আহত হন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তি একটি হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের আইসিইউতে ৩ দিন নিবিড়ভাবে চিকিৎসাধীন নিচ্ছিলেন। চিকিৎসা নেয়ার ৩ দিন পর তিনি মৃত্যুরকােলে ঢলে পড়েন। এদিকে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে, পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারে হয়ে আসে।
দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর মিজানের লাশ আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নিজ গ্রাম পলাশীপাড়ায় পৌঁছালে,দু’সন্তান আর স্বজনদের বুক ফাঁটা কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অনেকেই কেঁদে ফেলেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় গােরস্থান ময়দানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।