মেহেরপুর নিউজঃ
মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী বাজারে খেলনা পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় দুটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ চারটি স্মার্টফোন ও একটি মাল্টি-কারেন্সি ভিসা ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামের আবু সাইদের ছেলে সাব্বির আহমেদ (২২) এবং পিরোজপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে মাহফুজুর রহমান ওরফে শিপন (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে বারাদী বাজারে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই দুই যুবক খেলনা পিস্তল বের করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ঘিরে রাখেন এবং বারাদী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিস্তলটি উদ্ধার করে। পরীক্ষা করে সেটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে বারাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জান্নাত এন্টারপ্রাইজের সামনে থেকে ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে রুপালি ও কমলা রঙের দুটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স, সাদা রঙের একটি অপো এ১৫এস এবং গ্লোয়িং গ্রিন রঙের একটি অপো এ৫৭ স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ‘SABBIR AHAMED’ নাম লেখা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি মাল্টি-কারেন্সি ভিসা ডেবিট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা চারটি স্মার্টফোনের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জব্দ করা ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষায় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) মেহেরপুর সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সানা বলেন, খেলনা পিস্তল দিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই যুবকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমে তাঁদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।