মেহেরপুর নিউজঃ
মেহেরপুরের গাংনীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আলমাস নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমাস গাংনী উপজেলার কচুইখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আলমাসের স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর তিনি গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের ব্রিজের ওপর থেকে অপহরণ করেন। পরে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা জাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমাস, ওসমান ও জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ২, জিআর মামলা নম্বর ৩০০/২০২২ এবং শিশু সহিংসতা মামলা নম্বর ৬/২০২৬।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আলমাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায়ের আদেশে আরও বলা হয়, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায়যোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ওই সম্পদের ওপর অন্যান্য দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পারভিন সুলতানা এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা মামলা পরিচালনা করেন।