মেহেরপুর নিউজ:
মেহেরপুর-২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে কয়েকজন বহিরাগতকে কর্মরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চান সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুর-২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে যান। প্রথমে তিনি হাসপাতালের পুরাতন ভবন পরিদর্শন করেন। পরে নতুন ভবনে গিয়ে চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ল্যাবে গিয়ে কয়েকজন বহিরাগতকে সেখানে কর্মরত অবস্থায় দেখতে পান সংসদ সদস্য। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা অস্থায়ীভাবে সেখানে কাজ করছেন বলে জানান। এ সময় রবি নামের এক যুবক স্বাক্ষরবিহীন একটি পরিচয়পত্র দেখালে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ওঠে।
এর কিছুক্ষণ পর সংসদ সদস্য তৃতীয় তলা থেকে বের হয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তৃতীয় তলায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। হৈচৈ শুনে সংসদ সদস্য পুনরায় তৃতীয় তলায় গেলে সেখানে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মেহেরপুর ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান। সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে কথা বলার সময় ওজোপাডিকোর প্রধান ফটকের সামনে একদল যুবক বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তারা ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ এবং ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও, লড়াই করো’ স্লোগান দেয়।
পরে সংসদ সদস্য কার্যালয় থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার পরও প্রধান ফটকের বাইরে স্লোগান চলতে থাকে। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে সহযোগিতা করে।
এ সময় মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলা সভাপতি সোহেল রানা, সেক্রেটারি নজরুল ইসলামসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।