মেহেরপুর নিউজঃ
জীবিত অবস্থায় দীর্ঘদিন বাবার মুখ দেখার সুযোগ হয়নি। দুই দেশের সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে ছিল বাবা-মেয়ের দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। অবশেষে বাবার মৃত্যুর প্রায় ৪৫ বছর পর নয়, বরং মৃত্যুর পর শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখার সুযোগ হলো মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের মোছা. ফেরদৌসী খাতুনের। সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবার মুখ দেখে কিছুটা হলেও মিটিয়েছেন দীর্ঘদিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা।
ফেরদৌসী খাতুনের বাবার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। আর তাঁর স্বামীর বাড়ি বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামে। দুই গ্রামের দূরত্ব খুব বেশি না হলেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কারণে দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি তাঁর।
বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর হলেও মেয়ে যেন তাঁর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে। অবশেষে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে পূরণ হলো সেই ইচ্ছা।
ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মনোরঞ্জন শেখ বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মরদেহ মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাবার শেষ মুখ দেখেন মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন, জামাতা ইসরাফিলসহ নিকটাত্মীয়রা।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েব সুবেদার এনায়েত হোসেন এবং ভারতের পক্ষে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এএসআই নিলয় কুমারসহ দুই দেশের মোট ১০ জন সীমান্তরক্ষী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবার শেষ মুখ দেখার এই সুযোগ বাবা-মেয়ের সম্পর্কের এক আবেগঘন ও মানবিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল।